মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০২:১৪ অপরাহ্ন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা : বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একমাত্র শাটলের ক্যাম্পাস চবি। শাটল ট্রেনে যাত্রা যেমন স্বপ্নের, তেমনি ভোগান্তিরও। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) হাজারও শিক্ষার্থীদের আবেগ, ভালোবাস, অনুভূতি আর হতাশার নাম এই শাটল ট্রেন।
চট্টগ্রাম শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে এই ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ট্রেন। প্রায় ১০-১৫ হাজার শিক্ষার্থী নিয়মিত শাটলে যাতায়াত করেন। বর্তমানে ২ টি শাটল মোট ১৪ বার শহর-ক্যাম্পাস-শহর আসা যাওয়া করে। প্রতিটি শাটলে দশটি করে বগি আছে।
প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি শাটলের শিডিউল বরং লোকবলের সংকটে করোনা’র পর বন্ধ করে দেওয় হয় নিয়মিত শিডিউলের ডেমু ট্রেন। পুরো ট্রেনে নেই কোনো সচল ফ্যান। কিছু বগিতে ফ্যান থাকলেও কখনো চালাতে দেখা যায়নি ফ্যান। যার ফলে ভিড় এবং গরমে ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীরা জানান, এমনিতে শিক্ষার্থীর তুলনায় শাটল সংখ্যা অপ্রতুল। এর মধ্যে তিন জোড়া শাটল ও দুই জোড়া ডেমু বন্ধ থাকায় ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। শাটলে সিট খালি তো দূরের কথা তিল ধারনের ঠাঁই পর্যন্ত নেই। বাধ্য হয়ে অনেককে ঝুঁকি নিয়ে শাটলের ছাদে উঠতে হচ্ছে। চবির আরবি বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান সারোয়ার প্রতিদিনের কাগজকে বলেন, শাটল যেনো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের দোজখের ওম।
সব বিভাগের ক্লাস পরীক্ষা ৯:৩০ থেকে ১০ টার মধ্যে শুরু হওয়ায় ৮:২০ এর ট্রেনে করে সবাইকে একসাথে যেতে হয়। তারমধ্য আবার বগি কম। এতে অধিক গরম বেশি গদাগদির কারণে আমরা শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি। চবির যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলেই শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে পারে। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোন আগ্রহআমরা দেখতে পাচ্ছি না।
রেলমন্ত্রী নতুন শাটল দেওয়ার ঘোষণা দিলেন, সেটা পাওয়া তো দূরের কথা আগে যেগুলো ছিল সেগুলোও গায়েব হয়ে গেছে। শাটলের অভাবে ভোগান্তি অসহনীয় হয়ে গেছে। চবি ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার কে এম নুর আহমদ বলেন, আমরা অতি শিগগিরই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে চুক্তি নবায়নে বৈঠক করবো।
সেখানে ট্রেনের শিডিউল বাড়ানো ও অনান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যেহেতু আমাদের ট্রেন গুলো ভাড়ায় চালিত। চবি উপচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার বলেন, রেলমন্ত্রী ট্রেন দেবে বলেছেন কিন্তু কেনো দিচ্ছেন না সেটা বলতে পারছি না। আমরা এই বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ. বি. এম. ফজলে করিম চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করেছি।